ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

মির্জাগঞ্জে মৎস্য প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক



মির্জাগঞ্জে মৎস্য প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক
মির্জাগঞ্জে মৎস্য প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সরকারি মৎস্য চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে দেড় হাজার টাকা ভাতা গ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত মৎস্যচাষি ও বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে তাঁর অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক। তবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় গত ৫ ও ৬ অক্টোবর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষক প্রশিক্ষণকক্ষে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, পুকুর ব্যবস্থাপনা, মাছের খাদ্য প্রয়োগ এবং রোগ প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।

প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের সরকারি প্রশিক্ষণে প্রকৃত মৎস্যচাষি, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট খাতের আগ্রহী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির কাছেও নাম চাওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকে নাম দেওয়ার পরিবর্তে হারুন অর রশিদ মুন্সি নিজেই প্রশিক্ষণার্থীর তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান এবং দুই দিনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা গ্রহণ করেন। তবে তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

ভাতা গ্রহণের বিষয়ে যা বললেন হারুন মুন্সি

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ও ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ মুন্সি বলেন, “বিষয়টি আমি সঠিকভাবে জানি না। মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।” তিনি আরও বলেন, “আমি ডেইলি কান্ট্রি মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি। তাই সাংবাদিক হিসেবে সেখানে গিয়েছি এবং ভাতা নিয়েছি।”

তাঁর এ বক্তব্যের পর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত থাকা ও প্রশিক্ষণার্থীর ভাতা গ্রহণের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ভাতা কারা পাওয়ার যোগ্য, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, হারুন মুন্সি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন না; তিনি মৎস্যচাষি হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পুকুর রয়েছে বলেও কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

তবে হারুন মুন্সির পুকুরের অবস্থান, মালিকানা কিংবা মাছ চাষের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো যাচাই করা নথি এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকৃত মৎস্যচাষিদের সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হারুন অর রশিদ মুন্সির পটুয়াখালী শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় ছয়তলা ভবনের পেছনে একটি বাসভবন রয়েছে। সেখানে পুকুর না থাকার কথা উল্লেখ করে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁর মৎস্যচাষি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শুধু বাসভবনের অবস্থান বা সেখানে পুকুর না থাকার তথ্য দিয়ে অন্য কোথাও তাঁর পুকুর কিংবা মৎস্য খামার নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রকৃত উপকারভোগীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজন করা হয়। তাই প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং ভাতা বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে ভাতা নিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা, উপস্থিতির রেজিস্টার, যোগ্যতা যাচাইয়ের কাগজপত্র এবং ভাতা বিতরণের হিসাব পর্যালোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক। এতে অভিযোগের প্রকৃত সত্য প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় মূল প্রশ্ন হলো—সরকারি মৎস্য প্রশিক্ষণের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করেই কি প্রত্যেকে অংশ নিয়েছেন এবং ভাতা পেয়েছেন? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এর জবাব পাওয়া যেতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


মির্জাগঞ্জে মৎস্য প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সরকারি মৎস্য চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে দেড় হাজার টাকা ভাতা গ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত মৎস্যচাষি ও বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে তাঁর অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক। তবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় গত ৫ ও ৬ অক্টোবর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষক প্রশিক্ষণকক্ষে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, পুকুর ব্যবস্থাপনা, মাছের খাদ্য প্রয়োগ এবং রোগ প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।

প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের সরকারি প্রশিক্ষণে প্রকৃত মৎস্যচাষি, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট খাতের আগ্রহী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির কাছেও নাম চাওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকে নাম দেওয়ার পরিবর্তে হারুন অর রশিদ মুন্সি নিজেই প্রশিক্ষণার্থীর তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান এবং দুই দিনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা গ্রহণ করেন। তবে তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

ভাতা গ্রহণের বিষয়ে যা বললেন হারুন মুন্সি

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ও ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ মুন্সি বলেন, “বিষয়টি আমি সঠিকভাবে জানি না। মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।” তিনি আরও বলেন, “আমি ডেইলি কান্ট্রি মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি। তাই সাংবাদিক হিসেবে সেখানে গিয়েছি এবং ভাতা নিয়েছি।”

তাঁর এ বক্তব্যের পর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত থাকা ও প্রশিক্ষণার্থীর ভাতা গ্রহণের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ভাতা কারা পাওয়ার যোগ্য, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, হারুন মুন্সি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন না; তিনি মৎস্যচাষি হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পুকুর রয়েছে বলেও কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

তবে হারুন মুন্সির পুকুরের অবস্থান, মালিকানা কিংবা মাছ চাষের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো যাচাই করা নথি এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকৃত মৎস্যচাষিদের সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হারুন অর রশিদ মুন্সির পটুয়াখালী শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় ছয়তলা ভবনের পেছনে একটি বাসভবন রয়েছে। সেখানে পুকুর না থাকার কথা উল্লেখ করে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁর মৎস্যচাষি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শুধু বাসভবনের অবস্থান বা সেখানে পুকুর না থাকার তথ্য দিয়ে অন্য কোথাও তাঁর পুকুর কিংবা মৎস্য খামার নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রকৃত উপকারভোগীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজন করা হয়। তাই প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং ভাতা বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে ভাতা নিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা, উপস্থিতির রেজিস্টার, যোগ্যতা যাচাইয়ের কাগজপত্র এবং ভাতা বিতরণের হিসাব পর্যালোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক। এতে অভিযোগের প্রকৃত সত্য প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় মূল প্রশ্ন হলো—সরকারি মৎস্য প্রশিক্ষণের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করেই কি প্রত্যেকে অংশ নিয়েছেন এবং ভাতা পেয়েছেন? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এর জবাব পাওয়া যেতে পারে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মির্জাগঞ্জে মৎস্য প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক
0:00 0:00
1.0x