দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, গঠনতন্ত্র অমান্য এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের দুই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা শাখা। একই সঙ্গে তাঁদের ঘোষিত ইউনিয়ন কমিটিগুলো বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সাময়িক বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি আফজাল হোসেন রাড়ী ও সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়ার হোসেন হাওলাদার।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম শিকদারের যৌথ সিদ্ধান্তে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতির পূর্বানুমতি ও আলোচনা ছাড়াই দুই নেতা নিয়মবহির্ভূতভাবে ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন ও ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা শাখার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক ঐক্য ও গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন রাড়ী ও মো. লিয়ার হোসেন হাওলাদারকে উপজেলা শাখার পদসহ দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ঘোষিত নিয়মবহির্ভূত ইউনিয়ন কমিটিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জেলা শাখার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, দুই নেতার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী বহিষ্কারের মতো চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, তাঁদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলীয় নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বহিষ্কৃত উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়ার হোসেন হাওলাদার। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই দুটি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
লিয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, “সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও সঠিক নিয়ম মেনেই দুটি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
দলীয় সিদ্ধান্ত ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অপর সাময়িক বহিষ্কৃত নেতা আফজাল হোসেন রাড়ীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত