কুয়াকাটার পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও আলেম হাবিবুর রহমান মিছবাহর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিপুর ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী। সম্প্রতি মিছবাহর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো নানা অভিযোগ ও বানোয়াট তথ্যের বিষয়ে নিজের নিরপেক্ষ তদন্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী জানান, সম্প্রতি মিছবাহর বিরুদ্ধে একটি চক্র ‘নয়টি বিয়ের’ গল্প সাজায়, যার মধ্যে মহিপুরের এক তরুণী বুশরার নামও যুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মুফতী মিছবাহ রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তা তদন্ত করার জন্য তাঁর ওপর আস্থা রাখেন এবং তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
জামায়াত সভাপতি জানান, দায়িত্ব পেয়ে তিনি বুশরার ঠিকানা খুঁজে বের করেন এবং তার বাবাকে সঙ্গে রেখে বুশরার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা কথা বলেন। তাঁর দীর্ঘ তদন্ত ও পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে আসে:
পরিকল্পিত শিখিয়ে দেওয়া বয়ান: বুশরার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিছবাহর দ্বিতীয় স্ত্রী নাঈমা ওই তরুণীকে শিখিয়ে-পড়িয়ে তৈরি করেছিলেন। নাঈমার দাবি ছিল, বুশরা মুফতী মিছবাহর বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করলে নাঈমার নিজের সংসার ভাঙবে না—এই ভুল বুঝিয়ে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইমরানের ভূমিকা ও ঘনিষ্টতা: বুশরা ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমরান নামের এক ব্যক্তি (যিনি মিছবাহর পিএস হিসেবে পরিচিত) সম্পর্কেও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। বুশরা প্রথমে অস্বীকার করলেও তাদের কল রেকর্ড ও দীর্ঘ ফেসবুক কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইমরান ও বুশরার মাঝে সাধারণ সম্পর্কের চেয়েও বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই ইমরান সাহেবও বুশরাকে মিছবাহর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের অস্বীকার: বুশরার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান মিছবাহর সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। এমনকি মিছবাহর সঙ্গে তাঁর সামনা-সামনি দেখা কিংবা সরাসরি কথা বলার কোনো ঘটনাও ঘটেনি বলে বুশরা স্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও সত্যের পক্ষে অবস্থান
মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী স্পষ্ট করে বলেন, মুফতী মিছবাহর সঙ্গে তাঁর কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই, বরং তাঁরা দুজন বিপরীতমুখী রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন করেন। তিনি বলেন, "মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেই কারণে কারও ব্যক্তিত্ব নষ্ট করা কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য হতে পারে না। যেহেতু তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, তাই শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই আমি সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছি।
সম্মানিত দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জামায়াত সভাপতি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো কিছু দেখলেই তা অন্ধের মতো বিশ্বাস না করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। সামান্য পারিবারিক বিরোধ বা সামাজিক দ্বন্দ্বকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনোদনের খোরাক না বানিয়ে, প্রকৃত অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার তাগিদ দেন তিনি।
ইসলামের দৃষ্টি স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা হলো—যে ব্যক্তি অন্যের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন। সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, অন্যায়ের বিচার হোক এবং কারও ব্যক্তিগত মর্যাদা যেন অকারণে ক্ষুণ্ন না হয়।
মতামত