বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশনের উদ্যোগ, এলাকাজুড়ে প্রশংসা
মানবতার সেবায় এগিয়ে এসে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুরিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও যুবসমাজের পরিচিত মুখ মোঃ জহিরুল ইসলাম সোহাগ খান। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় অপারেশনের ব্যবস্থা করতে প্রথম দফায় প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তিনি।
জানা গেছে, আর্থিক অসচ্ছলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ভুরিয়া ইউনিয়নের অনেক অসহায় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষদের অনেকের কাছেই উন্নত চিকিৎসা ছিল ব্যয়বহুল ও নাগালের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন জহিরুল ইসলাম সোহাগ খান।
তাঁর এই উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০ জন নারী-পুরুষকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের চোখের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। চিকিৎসাসেবা গ্রহণের এই সুযোগ পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা কিংবা চোখের সমস্যা নিরসনে এমন উদ্যোগ তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই উদ্যোগ ভুরিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে অসংখ্য অসহায় মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মোঃ জহিরুল ইসলাম সোহাগ খানের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও মানুষের বিপদে ও প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।
মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মধ্যেই মানবিক জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। ভুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০০ অসহায় মানুষের চক্ষু চিকিৎসার এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নয়, বরং মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মতামত