পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খাসজমি ভোগদখল করে বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারগুলোর জমির অধিকার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি পালন করেন চরবাংলা বৃত্তিহীন কৃষক সমবায় সমিতির সদস্য ও ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, ভূমিহীন পরিবারগুলোর জমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং জমি দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চরবাংলা মৌজায় বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছে। তাঁদের দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে এসব পরিবার সংশ্লিষ্ট খাসজমি ভোগদখল করে আসছে। তাঁদের অনেকেই জমি বন্দোবস্তের জন্য ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে তাঁদের ৩০ একরের বেশি জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি দখলের চেষ্টা এবং তরমুজ চাষের জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এ ঘটনাকে ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে তাঁরা দাবি করেন। এতে স্থানীয় ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বসবাস ও চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এসব ভূমিহীন পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এখন তাঁরা নিজেদের বসতভিটা ও চাষাবাদের জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এ অবস্থায় ভূমিহীনদের ভোগদখলীয় জমির অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে অভিযোগে উল্লেখ করা মো. মামুন প্যাদা, মো. বশির হাওলাদার, মো. আনোয়ার, মো. মতিন, নিয়াজ মাহমুদ নকিব, ভিপি শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও ইউসুফসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জমির মালিকানা, বন্দোবস্ত ও ভোগদখলসংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী জমির অধিকার নির্ধারণ এবং কোনো পক্ষ যাতে বেআইনিভাবে অন্যের ভোগদখলীয় জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাঁরা বলেন, ভূমিহীন পরিবারগুলোর জীবিকা অনেকাংশেই এসব জমির ওপর নির্ভরশীল। জমি হারালে তাঁদের বসবাস ও চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তাই বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র, বন্দোবস্তের নথি এবং উত্থাপিত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।
মতামত