পটুয়াখালীর গলাচিপায় খেয়াঘাট অবৈধভাবে দখল, চাঁদাবাজি ও আদায় করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের পরোয়ানা জারির পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই গলাচিপা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, খেয়াঘাটটি দখলে নেওয়ার পর সেখানে অবৈধভাবে টোল ও অন্যান্য অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এতে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে জিআর/সিআর মামলা নম্বর ৩/২৬ দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী গলাচিপা থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খেয়াঘাট দখল ও অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পটুয়াখালী জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর খেয়াঘাট এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, খেয়াঘাটটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ঘাটে অবৈধভাবে অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল রাখা জরুরি। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে খেয়াঘাট দখল, চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে বিবেচ্য। এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই মামলার অগ্রগতি নির্ভর করবে।
মতামত