পটুয়াখালীর বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর, গবাদিপশু ও দীর্ঘদিনের জমানো অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া মোশাররফ হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দুর্দিনে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারটির জন্য এই সহায়তা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দাশপাড়া ইউনিয়নের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় মোশাররফ হোসেনের বসতঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। এতে বসতঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আগুনের ভয়াবহতায় দুটি গরু, ছয়টি ছাগল এবং বেশ কয়েকটি হাঁস-মুরগিও পুড়ে মারা যায়। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে। পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ ও নিজের এবং ছোট বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে যে অর্থ জমিয়েছিলেন, আগুনে সেই টাকাও পুড়ে যায়। ঘরে রাখা নগদ প্রায় সাত লাখ টাকা হারিয়ে পরিবারটির সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে নিজের ও ছোট বোনের বিয়ের জন্য প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম, স্বপ্ন ও সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বসতঘর, গবাদিপশু ও সঞ্চয় হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পরিবারটিকে আরও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে।
সহায়তা প্রদানকালে বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ব্যবসা ও উপার্জনের একটি অংশ সাধারণ মানুষ, সমাজ ও ধর্মীয় কল্যাণে ব্যয় করা নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তাঁর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান প্রত্যেকের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মো. হুমায়ুন কবির।
অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো মোশাররফ হোসেনের পরিবারের জন্য এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন দুর্যোগে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মতামত