বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রসারে নিবেদিত তরুণের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ছে উদ্ভাবনী চিন্তা, উপকৃত প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধা, মনন, সৃজনশীলতা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই চার গুণের সমন্বয়ে তরুণ প্রজন্মের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে চলেছেন পটুয়াখালীর কৃতি সন্তান মো. আব্দুল্লাহ আল সিয়াম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। তাঁর এই অর্জনে গর্বিত পটুয়াখালীর মানুষ; একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আব্দুল্লাহ আল সিয়াম পটুয়াখালীর সন্তান আব্দুল্লাহ আব্দুল হাইয়ের ছেলে। শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞান, বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলা, অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট প্রদর্শনী, রোবোটিকস কর্মশালা এবং পুষ্টি-সচেতনতা বিষয়ক নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ঢাকা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাধিক স্বনামধন্য সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু রাজধানীতেই নয়, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর মতো প্রান্তিক এলাকাতেও বিজ্ঞানচর্চার আলো পৌঁছেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হয়েছে বলে তাঁর পরিচিতিমূলক প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানচর্চা থেকে জনকল্যাণ—বহুমুখী উদ্যোগ
আব্দুল্লাহ আল সিয়ামের কর্মকাণ্ড কেবল বিজ্ঞান মেলা কিংবা প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিও রয়েছে তাঁর আগ্রহ। তাঁর উদ্যোগে ট্রাফিক সমস্যা নিরসন, বায়ুদূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনেই উৎসাহিত করা হয়নি; বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করা, তার সম্ভাব্য সমাধান খোঁজা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
করোনাকালেও থেমে থাকেনি কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল, তখনও অনলাইন ওয়েবিনার এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল চর্চা অব্যাহত রাখেন সিয়াম। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার এ প্রচেষ্টা তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও উদ্যোগী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রত্যয় নিয়ে তিনি কাজ করছেন, তা তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
রাজধানীকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি সিয়ামের উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেতে পারে, তাঁর কার্যক্রম সেই সম্ভাবনার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন তাঁর কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ পরিচালনার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। তবে যেকোনো পুরস্কারের প্রকৃত সার্থকতা কেবল সম্মাননা গ্রহণে নয়; বরং সেই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক অবদান রাখার মধ্যেই নিহিত।
আব্দুল্লাহ আল সিয়ামের এই অর্জন তাই শুধু তাঁর পরিবারের আনন্দের উপলক্ষ নয়, পটুয়াখালীর মানুষের জন্যও গর্বের সংবাদ। তাঁর মতো উদ্যোগী তরুণদের কাজ ও সাফল্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা সম্ভব।
পটুয়াখালীর এই তরুণের আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলো পৌঁছে যাক দেশের আরও বিস্তৃত অঞ্চলে—এমন প্রত্যাশা সবার। তাঁর অর্জন নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দিক, আন্তরিক উদ্যোগ, সৃজনশীল চিন্তা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকলে একজন তরুণও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হয়ে উঠতে পারেন।
পটুয়াখালীর গর্ব আব্দুল্লাহ আল সিয়ামের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
মতামত