ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

জনদুর্ভোগ

নথিতে পাকা সড়ক, বাস্তবে কাঁচা: ৩৩ লাখ টাকার সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সরকারি নথিতে সড়কটি পাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর সংস্কারকাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সড়কটির বড় অংশ এখনো কাঁচা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।অভিযোগ রয়েছে, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারী বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারিত সড়কে ব্যয় না করে অন্য একটি সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।এলজিইডির নথি অনুযায়ী, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারী বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির আইডি নম্বর ৫৭৮৫২৫১৩৩। ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পাকাকরণের তথ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিওবি-এম প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সংস্কারের জন্য ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের ঠিকাদারি পায় মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজ।নথিপত্রে দেখা যায়, গত ২৩ মার্চ সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ দেখানো হয়েছে। পরে ২৭ এপ্রিল ঠিকাদারকে কাজের চূড়ান্ত বিলও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দপ্রাপ্ত সড়কটিতে দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। বরং একই ইউনিয়নের ‘চাঁনমিয়া সিকদার সড়ক’-এ ওই অর্থে কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চাঁনমিয়া সিকদার সড়কের কোনো অনুমোদন কিংবা এলজিইডির আইডি নম্বর নেই। এমনকি সাবেক এক বিচারপতির এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনের সড়কে সরকারি বরাদ্দের অর্থে কাজ করার অভিযোগও উঠেছে। ফলে অনুমোদিত প্রকল্পের বাইরে গিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।তবে ঠিকাদার মো. মাসুদ রানা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এসও ও উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিডিউল অনুসরণ করেই কাজের শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী বিল উত্তোলন করেছেন বলেও জানান তিনি।কাজটির তদারক কর্মকর্তা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমানও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে যে সড়কটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ অন্যত্র ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভুল তো আগেই হয়েছে, আমার কিছু করার নাই।’এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী এটিএম সাদিকুর রহমান বলেন, একটি প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে আইডিবিহীন অন্য কোনো সড়কে কাজ করার সুযোগ নেই। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে, এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন ও হিসাবরক্ষক মো. চাঁন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। নথিতে সড়কটি পাকা, সংস্কারকাজ সম্পন্ন এবং কাজের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের তথ্য থাকলেও সরেজমিনে সড়কটি কাঁচা থাকার অভিযোগটি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। নির্ধারিত প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত সড়কেই ব্যয় হয়েছে কি না এবং সংস্কারকাজ বাস্তবে কতটা সম্পন্ন হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নথিতে পাকা সড়ক, বাস্তবে কাঁচা: ৩৩ লাখ টাকার সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন