ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

অনুসন্ধান

পটুয়াখালী জেলা পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রধান সহকারী শামীমকে ঘিরে প্রশ্ন

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী শামীম খানের বিরুদ্ধে প্রকল্প বরাদ্দ ও অর্থ ব্যয়, চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে অর্থ গ্রহণ, জমি লিখে নেওয়া এবং সরকারি আবাসন ব্যবহারের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩–২০২৪ ও ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক প্রকল্প বরাদ্দ এবং সংস্কারকাজের অর্থ পিয়ন, নৈশপ্রহরী ও তাঁদের স্ত্রীদের নামে চেকের মাধ্যমে পরিশোধের অভিযোগও সামনে এসেছে।এ ছাড়া জেলা পরিষদের শিশু পার্কের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নুরজ্জামানের কাছ থেকে চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে চার লাখ টাকা নেওয়া এবং নিজ এলাকার আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, জমির দলিল এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।অভিযোগগুলো ঘিরে জেলা পরিষদের প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ ছাড়, কাজের বাস্তবায়ন ও জনবল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় অন্য কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে।একই প্রতিষ্ঠানের নামে ১১ প্রকল্প বরাদ্দের অভিযোগঅভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৩–২০২৪ ও ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই অর্থবছরে একটি প্রতিষ্ঠানকে একটি প্রকল্প দেওয়ার নিয়ম অনুসরণের কথা থাকলেও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ১১টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে চারটি প্রকল্প দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।তবে প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল, একই প্রতিষ্ঠান একাধিক প্রকল্প পাওয়ার যোগ্য ছিল কি না এবং প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রকল্পের তালিকা, অনুমোদনপত্র, বরাদ্দের নথি ও বাস্তবায়ন প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।পিয়ন-নৈশপ্রহরী ও তাঁদের স্ত্রীদের নামে চেক ইস্যুর অভিযোগজেলা পরিষদের কার্যালয়, ডাকবাংলো সংস্কার এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অর্থ পরিশোধ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অফিসের পিয়ন, নৈশপ্রহরী এবং তাঁদের স্ত্রীদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছে।এ ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজ কারা করেছেন, কাজের বিল কে প্রস্তুত ও যাচাই করেছেন, চেক ইস্যুর অনুমোদন কোন কর্তৃপক্ষ দিয়েছেন এবং অর্থপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্পর্ক কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। চেক রেজিস্টার, বিল-ভাউচার, কাজের কার্যাদেশ, পরিমাপবহি, ব্যাংক লেনদেনের নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব।অভিযোগের বিষয়ে শুধু একজন কর্মচারীকে দায়ী করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে প্রকল্প অনুমোদন থেকে অর্থ পরিশোধ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের দায়িত্ব ও ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে অর্থ ও জমি নেওয়ার অভিযোগপ্রধান সহকারী শামীম খানের বিরুদ্ধে চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা পরিষদের শিশু পার্কের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নুরজ্জামানের কাছ থেকে এ উদ্দেশ্যে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ এলাকার আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরির আশ্বাসে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, জমির দলিল, দলিল সম্পাদনের প্রেক্ষাপট এবং চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীরা কী প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কী—তা যাচাই করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।বদলির পরও সরকারি বাসা ব্যবহারের অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, শামীম খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে শরীয়তপুরে বদলি করা হয়। তবে বদলির পরও তাঁর পরিবার পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সরকারি বাসায় অবস্থান করছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি আবাসন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি, বরাদ্দের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বদলির সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক কুট্টি সরকার শামীম খানকে পটুয়াখালীতে রাখার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। ওই চিঠির বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিউত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে জেলা পরিষদের প্রকল্প বরাদ্দ, অর্থ ব্যয়, চেক ইস্যু, চাকরিসংক্রান্ত লেনদেন, জমির দলিল এবং সরকারি আবাসন ব্যবহারের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।জনস্বার্থে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, আর্থিক লেনদেনের নিরীক্ষা এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা জরুরি। এতে সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী জেলা পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রধান সহকারী শামীমকে ঘিরে প্রশ্ন