কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ স্প্রে করা হয়। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকরিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদল ও এর অধীন বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং এডিস মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতামূলক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় সঠিক উত্তর দিয়ে তিনজন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের অন্য সদস্যদের মধ্যেও স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
কুইজ প্রতিযোগিতা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের মাঠের বিভিন্ন অংশ, ভবনের পেছনের স্থান এবং আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ঝোপঝাড় অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশা নিয়ন্ত্রণের ওষুধও স্প্রে করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আশপাশে পানি জমে থাকা, পরিত্যক্ত পাত্র ও অপরিচ্ছন্ন স্থান এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা জরুরি।
কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকরিয়া আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এ কর্মসূচি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা দ্রুত সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, শুধু বিশেষ দিবস বা একদিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও তুলে ধরেছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল।