কুয়াকাটা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ এবং উপকূলীয় জনপদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা এ পর্যটনকেন্দ্রকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পর্যটন খাতের বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
তবে পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সামনে রেখে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসানের সঙ্গে কুয়াকাটার বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় কুয়াকাটার পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রটির বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আরও আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তা, মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা, যাতায়াত সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় পরিবেশ ও সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। অপরিকল্পিত স্থাপনা, পরিবেশদূষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কুয়াকাটার উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় পণ্য বিক্রি এবং অন্যান্য সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালকের সঙ্গে এ কথোপকথন কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে আলোচনায় উঠে আসা নির্দিষ্ট বক্তব্য, সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
কুয়াকাটাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।