শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার লালপাতা গ্রামের একজন এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরশিবা গ্রামের সাতজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপা উপজেলার ছোটশিবা গ্রামের মৃত আনছার জোমাদ্দারের ছেলে মো. লিটন জোমাদ্দার (৪০), ধীরেণ রানার ছেলে দিরীপ রানা (৪৫), আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. নিরব (২৮), খলিল হাওলাদারের ছেলে মো. রাব্বি হাওলাদার (২২), আমির হোসেনের ছেলে মো. রাসেল (২৭), মৃত আজীজ কাজীর ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৩৮), ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার লালপাতা গ্রামের আফির উদ্দিন কাজীর ছেলে মো. রাজ্জাক কাজী (৫০) এবং মান্নান হাওলাদারের ছেলে মো. জসিম হাওলাদার (৪৫)।
উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌপুলিশ ফাঁড়ির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে তাঁদের আটক করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফেরদৌস, উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার রহমাতুল্লাহসহ নৌপুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী চরফ্যাশন ও গলাচিপা উপজেলার আট জেলেকে মা ইলিশ আহরণের সময় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।