এ অর্জনে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শাহরিয়ার রিফাত জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় সাফল্য তাঁর কাছে শুধু একটি পদক জয়ের বিষয় নয়; বরং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করা, নতুন কিছু শেখা এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অনুপ্রেরণা।
সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি প্রতিযোগিতায় তাঁকে অভিনন্দন জানানো ও শুভকামনা প্রকাশ করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে নিজের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ, দিকনির্দেশনা এবং দোয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
শাহরিয়ার রিফাত বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মেহেদী হাসান স্যার ও এনএসইউ স্টুডেন্ট বডিকে। পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের (ইউজিভি) আদনান শুকুর স্যার এবং তাঁর নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা তাঁর পথচলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান রিফাত।
নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন এই তরুণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ভাই ও বাবা-মায়ের ভালোবাসা, সমর্থন এবং দোয়া তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনের নানা পর্যায়ে পরিবারের এই সহযোগিতা তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন রিফাত। সহপ্রতিযোগীদের কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং সহযাত্রী হিসেবে দেখেন তিনি। সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় উল্লেখ করে রিফাত ভবিষ্যতে আবারও সেখানে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে অর্জিত সাফল্যকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে না দেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে চান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে রিফাত জানান, নিজের সামর্থ্য, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যদেরও সহযোগিতা করতে চান, যাতে তাঁর পথচলা অন্য কারও এগিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিনয়ের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বিনয়ী থাকার এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক কামনা করেছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ২০০ নম্বর আয়াতের শিক্ষা তুলে ধরে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।
শাহরিয়ার রিফাতের এ অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তাৎক্ষণিক বক্তৃতাচর্চা এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বিকাশের গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টানা দ্বিতীয়বার স্বর্ণপদক অর্জনের এই সাফল্য তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন সম্ভাবনা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করবে বলে আশাবাদী তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।