শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হলে দেশে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বাড়তে পারে। এর সুফল সরাসরি মৎস্যজীবীরাও ভোগ করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদী ও সাগরে কোনোভাবেই অবৈধভাবে জাল ফেলা যাবে না। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পটুয়াখালীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদারের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী।
সভায় বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, পায়রাগঞ্জ নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এ কে এম শফিকুল ইসলাম (ভিপি শাহীন), সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম তালুকদার এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মামুন খন্দকার।
বক্তারা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, একই সঙ্গে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
সভায় মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলেদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।