শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালী শহরের ঝাউতলা মাঠে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল, পটুয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরির সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, মেলার সংগঠক মো. সোহেল সরকার, বিক্রয় ও বিপণনকর্মী মো. আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। বইপ্রেমী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন বয়সের পাঠকেরা মেলায় এসে বই দেখার পাশাপাশি পছন্দের বই সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
সোমবার চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
বইমেলাকে কেন্দ্র করে আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বিকেল ৪টা থেকে ৫টা এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতা বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। শিশু থেকে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছামতো বিষয় নিয়ে ছবি আঁকতে পারবে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে গ্রামের দৃশ্য। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শরৎকাল এবং নবম শ্রেণি থেকে উন্মুক্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীরা পটুয়াখালী জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে ছবি আঁকবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনজন করে বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপ রাখা হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি, ‘খ’ গ্রুপে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি এবং ‘গ’ গ্রুপে অষ্টম শ্রেণি থেকে উন্মুক্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীরা অংশ নিতে পারবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন করে মোট তিনজনকে পুরস্কৃত করা হবে।
পাঠাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক চর্চায় গুরুত্ব
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বই পড়া, ছবি আঁকা ও আবৃত্তিচর্চার সুযোগ তৈরি হলে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পটুয়াখালীর বইপ্রেমী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষকে মেলা পরিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আয়োজকেরা।
সংবাদের ক্যাটাগরি: শিক্ষা ও সংস্কৃতি।