সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও শোষণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নও জরুরি।
সভায় শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও শোষণ, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অনেক শিশু পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণে তাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার কথা প্রকাশ করতে পারে না। ফলে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সভায় শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারকে আরও সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, সভা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণা বাড়ানো এবং কোনো শিশু সহিংসতা বা শোষণের শিকার হলে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের সুরক্ষা শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের অধিকার রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ ধরনের অ্যাডভোকেসি সভা শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও শোষণ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।