বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল।
জেলা প্রশাসক বলেন, মির্জাগঞ্জের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। এ জন্য ‘মির্জাগঞ্জ ২০৫০’ নামে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তার মতে, একটি উপজেলার টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, সম্ভাবনা, সমস্যা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে বলে তিনি মত দেন।
মতবিনিময় সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন চৌধুরী আশরাফুল করিম।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকেই বেতন-ভাতা পান। তাই সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে ন্যায্য সম্মান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
মতবিনিময় সভায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা, উপজেলার উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকসেবা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দেন সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সোহরাব হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন ফরাজী, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সি, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আনোয়ার হোসেন সিকদার, আমিনুল ইসলাম খোকন ও গোলাম ফারুক মুন্সি।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসিবুল গনি মনির খন্দকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর মো. শাহজাহান মিয়া, মির্জাগঞ্জ উপজেলা তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী রাশেদ শামস, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন নান্নু, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বাশার মোখলেছ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আলামীন প্রিন্স ও সাংবাদিক জিয়াউর রহমান।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘমেয়াদি ‘মির্জাগঞ্জ ২০৫০’ পরিকল্পনার ভাবনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সমন্বিত করে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, স্থানীয় অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর।