জনপ্রতিনিধির দায়িত্বকে শুধু সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তার সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা জানার জন্য ‘জনতার কল সেন্টার’ চালু, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং পৌরসভার নাগরিকসেবা নিয়ে মতবিনিময়ের মতো কার্যক্রম রয়েছে।
সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত জানার ও সমাধানের লক্ষ্যে বাউফলে ‘জনতার কল সেন্টার’ চালু করেছেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজন, অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যার কথা সরাসরি জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি অভিযোগ ও নাগরিক সমস্যাগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মানুষের সমস্যা জানার চেষ্টাও করেছেন ড. মাসুদ। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত ধুলিয়া ইউনিয়নের এলাকা পরিদর্শন করে তিনি ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে নওমালা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধনও করেছেন তিনি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এ কাজকে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাউফল পৌরসভাকে সচল, আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সেখানে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পৌরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।
এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একজন জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা জনআস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাউফলে সাম্প্রতিক সময়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনস্বাস্থ্য, নদীভাঙন, নাগরিকসেবা ও সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখতে নিয়মিতভাবে মানুষের কথা শোনা, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা—এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাউফলের মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে যুক্ত করার একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে। তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা, কার্যকারিতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ওপর।