বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ‘ফান ঝৌ-৬’। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে বুধবার সকালে এটি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে এসে পৌঁছায়। জাহাজটিতে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, একটি মোবাইল হারবার ক্রেন এবং ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আধুনিক সরঞ্জাম পায়রা বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে সময় কমানোর পাশাপাশি বন্দরের হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে এসব যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘদিন ধরে পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অর্জনের পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা। চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা এবং বড় জাহাজ নিরাপদে চলাচলের উপযোগী রাখতে ড্রেজিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন এবং কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে যুক্ত হওয়া পাঁচটি আধুনিক সরঞ্জাম পায়রা বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি আনবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার দিকে বন্দরের অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে। বন্দরকে পুরোপুরি আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পায়রা বন্দরের অবকাঠামো ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা যত বাড়বে, ততই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বন্দরের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পণ্য পরিবহনে সময় ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুধু আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনই যথেষ্ট নয়; রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষা, নিয়মিত ড্রেজিং, নিরাপদ নৌপথ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে পায়রা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পথ আরও সুগম হবে।
প্রায় দুই বছর পর প্রথম টার্মিনালে চীনা জাহাজের সরাসরি ভেড়া এবং একই সঙ্গে পাঁচটি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম আসাকে তাই পায়রা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন সরঞ্জামগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে পণ্য ওঠানো-নামানোর গতি ও সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।