গত শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ চরবিশ্বাস ম্যানগ্রোভ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। জিডিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—শাহীন হাওলাদার, মো. ফারুক, আজাদ তালুকদার ও মো. রহিম।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর আগস্তি বিটের আওতাধীন প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে ২০১৫ সালে ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের আওতায় বাগানটি সৃজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শনিবার বিকেলে স্থানীয় শাহীন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ওই এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কাজ করছিলেন। তরমুজ চাষের উপযোগী করার উদ্দেশ্যেই সেখানে মাটি কাটার কাজ চলছিল বলে দাবি বন বিভাগের।
খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেন। বন বিভাগের দাবি, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ বাগানের চার শতাধিক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
গলাচিপা বিট কর্মকর্তা আবদুল বারেক বলেন, ‘ওই জায়গাটি সরকারি। সরকারি বনে মাটি কাটা ও গাছ ধ্বংসের সময় আমি বাধা দিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’
তবে বন বিভাগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহীন হাওলাদার। তাঁর দাবি, ওই চর ২০০৪-০৫ ও ২০০৫-০৬ অর্থবছরে গলাচিপা ভূমি অফিসের মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বন বিভাগ কোনো গাছ লাগায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা যে জায়গায় গিয়েছি, সেটি সরকার ২০০৫-০৬ সালে আমাদের বন্দোবস্ত দিয়েছে। সেই সময় থেকেই বন বিভাগের সঙ্গে আমাদের মামলা ও বিভিন্ন বিরোধ চলছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক একটি টিম গঠন করে বন বিভাগ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ১১ জুলাই পটুয়াখালী জেলা বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা, স্থানীয় বিট কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার ও চেইনম্যানের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, শতাধিক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত গৃহহীন ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন করা হয়। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহীন হাওলাদারের দাবি, ডিমারকেশন করা জায়গা থেকে প্রায় এক হাজার ফুট বাইরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাউন্ডারি তৈরি করে পানি প্রবেশের ব্যবস্থা বন্ধ করে তরমুজ চাষের উপযোগী করার কাজ চলছিল। এ সময় সেখানে থাকা প্রাকৃতিক আগাছা, লতাপাতা ও গাছপালা পরিষ্কার করা হচ্ছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাধা দেওয়ার পর তিনি কাজ বন্ধ করে দেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যদি প্রমাণ হয় যে তিনি বন বিভাগের বরাদ্দকৃত জমিতে প্রবেশ করেছেন কিংবা বন বিভাগের কোনো গাছ কেটেছেন, তাহলে প্রচলিত আইনে যে শাস্তি রয়েছে, তা তিনি মেনে নেবেন।
গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, বন কেটে তরমুজ চাষের উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কিছুটা বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বন বিভাগের দাবি ও অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্যে ওই জমির মালিকানা, বন্দোবস্ত, সীমানা নির্ধারণ এবং ম্যানগ্রোভ বাগানের জমিতে মাটি কাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের দাবি উঠেছে।