পল্লী সেবা সংঘ (পিএসএস)-এর উদ্যোগে দুমকীস্থ পল্লী সেবা সংঘের অডিটরিয়ামে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মোট চারটি ব্যাচে বিভক্ত করে প্রতিটি ব্যাচের কৃষকদের তিন দিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি চাষ, উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল, ফসলের রোগবালাই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদিত পণ্য সঠিক পদ্ধতিতে বাজারজাতকরণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুন হালদার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা লিনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক অলিউল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন পল্লী সেবা সংঘের পরিচালক হোসাইন আহম্মেদ কবির।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাড়ির আঙিনা কিংবা অনাবাদি জমিতে পরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে পরিবারের বাড়তি আয়ও সম্ভব।
তারা বলেন, স্বল্প পরিসরের জমি যথাযথভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষিপণ্য বিক্রির মাধ্যমে তৈরি হবে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ। বিশেষ করে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া গেলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
আয়োজকরা জানান, কৃষকদের শুধু তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নয়, আধুনিক চাষাবাদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিকে উৎপাদনমুখী করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করাও উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের অনাবাদি জমিতে নিরাপদ ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সবজি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।