নিহত আনজুম দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আরিফুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনজুম আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। সোমবার বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে কলেজ সড়কসংলগ্ন মাঠে ফুটবল খেলছিল সে। খেলার একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঠে পড়ে যায় আনজুম।
বিষয়টি জানতে পেরে তার সহপাঠীরা পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে আনজুমের মা ঘটনাস্থলে এসে তাকে প্রাথমিকভাবে পানি খাওয়ান এবং মাথায় পানি দেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে আনজুমের মরদেহ দশমিনার সবুজবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়।
আনজুমের সহপাঠী সাইদ জানান, তারা একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার ভাষ্য, আনজুমের অ্যাজমার সমস্যা ছিল। সোমবার বিকেলে তারা কলেজের পাশের মাঠে ফুটবল খেলছিল। হঠাৎ আনজুম অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তিনি ফোন করে আনজুমের মাকে বিষয়টি জানান। তার মা এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মো. আরিফুর রহমান জানান, তিনি দশমিনা ব্র্যাক অফিসে চাকরি করেন। চাকরির কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপজেলার সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার ছেলে আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। সোমবার বিকেলে ফুটবল খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং দ্রুত তাকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা আরও জানান, আনজুমের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ ঘটনায় সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।