সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘পুরো পটুয়াখালী হতে পারে দেশের পর্যটনের নতুন গন্তব্য।’ কুয়াকাটার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে পর্যটনের আওতায় এনে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম। সভায় জেলার পর্যটন সম্ভাবনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।
সভায় পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে পর্যটনের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, তার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। জেলার নদী, চরাঞ্চল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে পর্যটনের নতুন উপাদান হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বিশেষ করে গলাচিপাসহ নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে হোমস্টে ও স্থানীয় জীবনযাত্রাভিত্তিক পর্যটন চালুর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। নদীকেন্দ্রিক ভ্রমণ, ইকোট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মতো টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মত দেন বক্তারা।
সভায় পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পর্যটনকেন্দ্রে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেওয়া হয়। পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে পটুয়াখালী শহরের আশপাশেও পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা সভায় তুলে ধরা হয়। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি), স্থানীয় ক্যান্টনমেন্ট ও ইপিজেডকে ঘিরে কয়েক একর জমিতে মিনি পার্ক এবং মানসম্মত আবাসন সুবিধাসহ নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।
পর্যটন খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো পর্যটন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল ও টেকসই করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
সভায় জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
পটুয়াখালীর পর্যটনকে কেবল কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক না রেখে পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের এ জেলায় পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।