আটক ব্যক্তিরা হলেন—সজীব মল্লিক, শিপন মল্লিক, মঞ্জু ওরফে আমিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা তক্ষক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতের দিকে উড়বুনিয়া গ্রামের নাসির মল্লিকের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বাড়িতে অবস্থানরত সজীব মল্লিক, শিপন মল্লিক, মঞ্জু ওরফে আমিনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে একটি তক্ষক উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় তক্ষক চোরাকারবারের মূল হোতা হিসেবে কথিত নাসির মল্লিক একটি তক্ষক নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে নাসির মল্লিক তক্ষকের মূল চালান নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় তক্ষককে ঘিরে নানা ধরনের গুজব ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব গুজবকে কেন্দ্র করে একটি চক্র তক্ষক সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। তক্ষকের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
পুলিশের অভিযানে একটি তক্ষক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে তক্ষকটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, এর সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা কতটুকু এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা তক্ষকটি সংরক্ষণ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে তক্ষক পাচার বা বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় আটক চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া নাসির মল্লিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যপ্রাণী নিয়ে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।