মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর পটুয়াখালী পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার রস্তুম পণ্ডিতের গলিতে মাহফুজা বেগমের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়েছে, জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে মাহফুজা বেগমকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর পা ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁকে মারধর করে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা মাহফুজা বেগমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দুই দিন আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাহিদ হাসানের সঙ্গে মাহফুজা বেগমের ছেলে রায়হান ইসলামের মোবাইল ফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। ওই বিরোধের জের ধরে পরবর্তী সময়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাহফুজা বেগমের স্বামী রিয়াজ হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, হামলায় তাঁর স্ত্রীর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে থাকা অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় রিয়াজ হাওলাদার বাদী হয়ে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর জি আর ৬৭/২০২৬।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এলে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার প্রধান আসামি জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।