ফাইজুর রহমান শুভ বর্তমানে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে থাকার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন বলেও তাদের দাবি।
শুভর রাজনৈতিক পরিবারের বিষয়টিও প্রচারণায় তুলে ধরা হয়েছে। তার বাবা আব্দুল হালিম হাওলাদার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্বশীল হিসেবে দলটির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তার মা পেয়ারা বেগমও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কমিটির সদস্য ছিলেন বলে প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ফাইজুর রহমান শুভর সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তার সমর্থকেরা। তাদের দাবি, সাবেক যুবনেতা আলহাজ শাজাহান খানের সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শিপলু খানের নেতৃত্বে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপিকে সংগঠিত করার কাজেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলেও তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তার সমর্থকেরা আরও বলেন, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ফাইজুর রহমান শুভ সক্রিয় ছিলেন। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ৯ নম্বর কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে একাধিক ব্যক্তির আগ্রহের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এস এম পাবেল শিকদারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ফাইজুর রহমান শুভকে ঘিরে প্রচারণায় বলা হচ্ছে, দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী।
তবে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে কে দলীয়ভাবে সমর্থন বা মনোনয়ন পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে মো. মাইনুল ইসলামকে চেয়ারম্যান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।