সম্প্রতি ঝাউতলা ওয়াকওয়েতে হাঁটতে গিয়ে এমনই একটি দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার দাবি করেছেন এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, ওয়াকওয়ের একটি অন্ধকার স্থানে বোরখা পরা এক নারী বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি সেখানে এসে ওই নারীর সঙ্গে কথাবার্তা ও দর-কষাকষি করেন। পরে তিনি অন্য একজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ফিরে আসেন। এরপর ওই স্থানে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কোনো অপরাধে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাউতলা ওয়াকওয়ের বেশ কিছু অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। কোথাও বাতি না থাকায় আবার কোথাও বাতি থাকলেও তা পর্যাপ্ত আলো দিতে না পারায় সন্ধ্যার পর জায়গাগুলো অনেকটাই নির্জন ও অন্ধকার হয়ে পড়ে। আর এই অন্ধকারই নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
নিয়মিত হাঁটতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর ওয়াকওয়ের কিছু অংশে একা চলাচল করতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবার নিয়ে যারা হাঁটতে আসেন, তারাও ওয়াকওয়ের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, অন্ধকারের কারণে শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের আশঙ্কাই নয়, ছিনতাই, চুরি কিংবা হয়রানির মতো অপরাধের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, ঝাউতলা ওয়াকওয়ের সমস্যা কেবল সড়কবাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি, পরিচ্ছন্নতা এবং জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে ওয়াকওয়ের যেসব অংশ অন্ধকার ও জনশূন্য হয়ে পড়ে, সেসব স্থানে নিয়মিত টহল বা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মানুষ এখানে হাঁটতে আসে, পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসে। কিন্তু সন্ধ্যার পর যদি জায়গাটি অন্ধকার হয়ে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্রুত বাতির ব্যবস্থা করা দরকার।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অবস্থা চলতে থাকলে ঝাউতলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এলাকাবাসীর দাবি, পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঝাউতলা ওয়াকওয়ের অন্ধকার স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন করা। একই সঙ্গে নষ্ট বাতি দ্রুত মেরামত, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি ওয়াকওয়েতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, ঝাউতলা ওয়াকওয়ে শুধু একটি হাঁটার স্থান নয়; এটি শহরের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত জনপরিসর। তাই এটিকে অন্ধকার ও অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে না রেখে দ্রুত আলোকিত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই ঝাউতলার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।