বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা। এরপর ব্যাংকিং পেশায় কর্মজীবন, আইন পেশায় যুক্ত হওয়া এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বিচার বিভাগীয় পরীক্ষায় সাফল্য—বেতাগীর মো. আরিফ হোসেনের পথচলাটি যেন অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোর্ট পরিদর্শক পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
একাধিক প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাফল্য অর্জন করায় বরগুনার বেতাগীতে আরিফ হোসেনকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১২৬তম।
মো. আরিফ হোসেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছোপখালী গ্রামের মো. আবু হানিফ আকন ও মোসা. তাসলিমা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র অফিসার (ল’) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে পূবালী ব্যাংক পিএলসিতে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবেও তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আরিফ হোসেন। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভের পর ছোপখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং বেতাগী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ শেষ করে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তাঁর শিক্ষাজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বিচার বিভাগীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে মো. আরিফ হোসেন বলেন, এ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তিনি অশেষ শুকরিয়া আদায় করছেন। তাঁর বাবা-মা, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আরিফ হোসেন বলেন, বিচার বিভাগীয় পরীক্ষায় সাফল্য তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিশ্রম করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তাঁর কাছে যেমন সম্মানের, তেমনি বড় দায়িত্বেরও। সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
আরিফ হোসেনের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বেতাগীর এই তরুণ মেধাবী সন্তান তাঁর অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে কাজে লাগাবেন।