পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে নতুন গতি। সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও বেড়েছে। তবে অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনার পুরোপুরি সুফল মিলছে না বরিশাল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে। বিশেষ করে গ্যাস-সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যায় বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না।
বরিশাল বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ১৩১ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শিল্পনগরীতে মোট ৫৩০টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো অংশে ৩৯৭টি এবং নতুন অংশে ১৩৩টি উন্নত প্লট রয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ১৭৭টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৪১৮টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ১১২টি প্লট এখনো বরাদ্দহীন অবস্থায় রয়েছে। এসব প্লটে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতা উদ্যোক্তাদের আগ্রহে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অবরাদ্দ থাকা প্লটগুলো উদ্যোক্তাদের মধ্যে বরাদ্দ দিতে গত ১৫ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করে। পরে উদ্যোক্তাদের আরও সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বরিশাল বিসিকে বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা গ্যাসের সরবরাহ না থাকা। গ্যাসনির্ভর শিল্প স্থাপনের জন্য প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সুবিধা না পাওয়ায় কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বিসিক সূত্রে আরও জানা যায়, গ্যাস-সংকটের কারণে তিনটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের উদ্যোগও থেমে আছে। উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ নিলেও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এসব কারখানা চালু করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে নানা ধরনের সমস্যা থাকায় শিল্পনগরীর উৎপাদন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বরিশাল বিসিকের কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, শিল্পনগরীতে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। এর অন্যতম কারণ গ্যাস-সংকট। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তিনটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ নিলেও গ্যাসের অভাবে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।
পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বরিশালে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শিল্পনগরীর অব্যবহৃত প্লটগুলোতে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।