বরিশালের বাকেরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতার মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মির্জাগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আনোয়ার হোসেন খানকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরপাশা এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আসামিরা ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা বজলুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় নাম থাকা ১৯ জনের তালিকায় আনোয়ার হোসেন খানের নাম রয়েছে। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালতলী গ্রামের নুর মোহাম্মদ খানের ছেলে এবং মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বলে জানা গেছে।
তবে মামলায় নিজের নাম আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আনোয়ার হোসেন খান। তাঁর দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মহল তাকে মামলায় আসামি করিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বাদী এসআই এনামুল হকের সঙ্গে কথা বললেও তাঁর নাম কীভাবে আসামির তালিকায় এসেছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা পাননি।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন বলে তাঁর দাবি। অথচ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার তাঁর নাম আসায় তিনি বিস্মিত। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আনোয়ার হোসেনকে মামলায় আসামি করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে এসআই এনামুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন এবং এটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম কীভাবে এসেছে—এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁর মামলায় অন্তর্ভুক্তির কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।