পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় স্কুল-কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট টিউশন শেষে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব ও অন্ধকারের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত স্কুল-কলেজের বাইরে অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্য কোচিং কিংবা শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে। এসব টিউশন বা কোচিংয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে সন্ধ্যার দিকে শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে দেরি হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থী টিউশন শেষে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়কের মোড়, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। পর্যাপ্ত রিকশা বা অন্যান্য যানবাহন না পেলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। ফলে অন্ধকার সড়কে একা বা কয়েকজন মিলে বাড়ি ফেরার সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে লেবুখালী, পাংগাশিয়া, মুরাদিয়া, আংগারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব এলাকায় অনেক সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, সন্ধ্যার পর নির্জন সড়ক কিংবা যানবাহনের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করার সুযোগে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অভিভাবকরা।
একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানদের পড়াশোনার স্বার্থে তারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য হলেও সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অপেক্ষায় না থেকে আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
তাদের পরামর্শ, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা দিনের আলো থাকতেই নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।