প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল সুপারিশের অভিযোগ, শোকজ; ৯১ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ
পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার ও সাবেক সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ও ‘ভূতুরে বিল’ পরিশোধের সুপারিশ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পটুয়াখালী।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা হয়। নোটিশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে প্রকৌশলী খায়রুল বাশারকে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, দুটি পৃথক প্যাকেজের সড়ক পুনর্বাসন কাজের তদারকি ও বিল পরিশোধের সুপারিশের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
W-35/2023-24 প্যাকেজে মিরিচবুনিয়া-চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মিরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর কমিউনিটি স্কুল সড়কের পুনর্বাসন কাজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল বাবদ মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল এবং প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ‘ভূতুরে বিল’ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে W-36/2023-24 প্যাকেজে জইনকাঠি ইউপিসি থেকে খুরিয়ার খেয়াঘাট বাজার হয়ে এম. ধরান্দি (কলেজ) সড়কের পুনর্বাসন কাজে প্রথম চলতি বিল হিসেবে ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত এবং প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ‘ভূতুরে বিল’ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলজিইডির প্রাথমিক যাচাইয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত ও অবাস্তব বিলের সুপারিশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।
নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ও ‘Unspecified’ বিলের সুপারিশ করা হলো এবং ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে ‘ভূতুরে বিল’ প্রদানের দায়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না।
এছাড়া অনিয়ম ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে উত্তোলিত প্রায় ৯১ লাখ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।