আহত এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হানিফ পরিবহনের বাসটি সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে রাতের কোনো এক সময় বাসটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রথখোলা এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর গাছ ফেলে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা একটি ডাকাত দল বাসটির গতিরোধ করে।
বাস থামার পর ডাকাতরা যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর শুরু করে এবং তাদের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ৭৫ বছর বয়সী যাত্রী গুলনাহার বেগম স্বর্ণালংকার খুলে দিতে দেরি করায় ডাকাত দলের এক সদস্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময় মহাসড়কে টহলরত মুকসুদপুর পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত গুলনাহার বেগম ও ১৭ বছর বয়সী হায়দার মিয়াকে রাজৈর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। আহত দুজনের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া এলাকায় বলে জানা গেছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডাকাতির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। একইভাবে নিকটস্থ সিন্দিয়াঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. জালাল মিয়াও ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, আগে রাতের বেলায় এ মহাসড়কের ওই অংশে নৌ পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত টহল দিতেন। তবে টহল ব্যবস্থা নিয়ে জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ডাকাতির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত রথখোলা এলাকায় গত দুই মাসে অন্তত তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ফলে মহাসড়কের এ অংশে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।