পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক বিরোধের জেরে রানী বেগম নামে এক নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি হালিম রাড়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক অর্থদণ্ডও দেন।
আদালত সূত্র ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর বাউফল উপজেলার মধ্য কেশবপুর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কাশেম রাড়ীর বাড়ির সামনে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রানী বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হালিম রাড়ী ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগম দা দিয়ে রানী বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় রানী বেগমকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রানী বেগমের স্বামী আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আদালতে ১৭ জনের সাক্ষ্য
মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ এজাহারকারী, তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয়। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।
রোববার নির্ধারিত দিনে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে হালিম রাড়ীকে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, একই ধারায় পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, পুষ্প বেগম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে হালিম
মামলার প্রধান আসামি হালিম রাড়ী দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার অপর আসামি পুষ্প বেগম এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মজিবুর রহমান টোটন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালত রায় দিয়েছেন। বিচারাধীন অন্যান্য মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, মামলাটি শুরুতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ছিল। মামলার শেষ পর্যায়ে তিনি স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হন। আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। পরে আদালত দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় হালিম রাড়ীকে যাবজ্জীবন এবং পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।