রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে দেওয়া সেবার বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের হয়রানি বা জটিলতার মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জনসেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগসহ জনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি দপ্তরগুলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনগণের কল্যাণে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদানের অর্থ ও চেক বিতরণ করা হয়। সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী উপকারভোগীদের হাতে এসব অনুদানের অর্থ ও চেক তুলে দেন। অনুদান পেয়ে উপকারভোগীরা তাদের প্রয়োজনের সময়ে এ ধরনের সহায়তা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মির্জাগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সেবার যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মতবিনিময় সভার পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদান বিতরণের উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।