পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বাস্তবায়ন না হওয়া কাজ এবং অসম্পাদিত কাজের বিপরীতে অতিরিক্ত বিল সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এলজিইডি পটুয়াখালী।
এলজিইডির পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিশে পত্র প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে মো. আতিকুর রহমান মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুটি উন্নয়ন প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর মধ্যে CAFDRIRP/Patuakhali/VR/ER/W-35/2023-24 প্যাকেজের আওতায় মরিচবুনিয়া চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর বিরাজলা কমিউনিটি স্কুল সড়কের পুনর্বাসন কাজ এবং CAFDRIRP/Patuakhali/UNR/ER/W-36/2023-24 প্যাকেজের আওতায় লোহালিয়া ইউপিসি-ভূরিয়া বাজার-দারান্দি লঞ্চঘাট হয়ে মিয়ারহাট সড়ক ও জৈনকাঠি ইউপিসি থেকে ভূরিয়া বাজার হয়ে এম. ধরান্দি কলেজ সড়কের পুনর্বাসন কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এলজিইডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্যাকেজগুলোর কিছু কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও ‘আনস্পেসিফাইড’ খাতে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, W-35/2023-24 প্যাকেজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল হিসেবে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে W-36/2023-24 প্যাকেজে প্রথম চলতি বিল বাবদ ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল সুপারিশের মাধ্যমে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, দুটি প্যাকেজে ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে যথাক্রমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ও ৪৪ লাখ টাকার ‘ভূতুরে বিল’ প্রদান করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৯১ লাখ টাকা।
এ অবস্থায় কেন অতিরিক্ত ও ‘আনস্পেসিফাইড’ বিল সুপারিশ করা হয়েছে এবং ‘ভূতুরে বিল’ প্রদানের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না—এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৯১ লাখ টাকা ফেরত আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নোটিশটি এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষর করেছেন। এর অনুলিপি প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন), পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মো. আতিকুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।