পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের নানাভাবে প্রলুব্ধ ও বিভ্রান্ত করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, টিকিট কাউন্টার ও ওয়ার্ডের আশপাশে সকাল থেকেই ঘোরাফেরা করে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দালাল চক্র। রোগী প্রবেশ করলেই তারা নিজেদের হাসপাতালের লোক পরিচয় দিয়ে বলে— "এখানে ভালো ডাক্তার নেই, পরীক্ষার মেশিন নষ্ট, বাইরে ভালো চিকিৎসা পাবেন, চলেন নিয়ে যাই।"
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব, সেই পরীক্ষার জন্য তারা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি টাকা নিয়ে পাশের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। অনেক সময় চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আগেই দালালরা ব্যবস্থাপত্র হাতিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট ফার্মেসি ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এর বিনিময়ে ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক থেকে কমিশন পায় তারা।
গলাচিপা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন জানান, "আমার মায়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম দরকার ছিল। হাসপাতালে ৩০০ টাকায় হয়। কিন্তু এক লোক এসে বললো এখানে আজ হবে না, বাইরে ১০০০ টাকা দিয়ে করিয়ে আনলাম। পরে শুনি হাসপাতালে হচ্ছিল।"
এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণেও ভোগান্তি চরমে। সরকারি হাসপাতাল চত্বরে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "দালাল চক্রের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার ও সিসি ক্যামেরা মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। রোগীদের সচেতন থাকার অনুরোধ করছি, কেউ প্রলোভনে পা দেবেন না। সব পরীক্ষা হাসপাতালেই স্বল্পমূল্যে হয়।"
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দালাল চক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূলে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান এবং হাসপাতাল চত্বরে দালালমুক্ত জোন ঘোষণা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতেই থাকবে।