পটুয়াখালীর বাউফলে জমিতে কাজের মজুরি বাবদ ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মনোয়ারা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম।
স্থানীয় ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম, মনোয়ারা বেগম, খাইরুল ইসলাম ও রেজাউল করিমের শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, চারজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী মো. রাসেলের জমিতে কাজ করার মজুরি বাবদ তাঁর ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সময় রাসেল আহত হন।
জহিরুলের ভাষ্য, বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে বাড়িতে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে তাঁর মা, দুই ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন বলেন, রোববারের ঘটনা মীমাংসার জন্য সোমবার সকালে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।