পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২৫০টি হলেও বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০ জনে। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় চার গুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের দৈনিক রোগীর হিসাবসংবলিত একটি প্রতিবেদনে ১ হাজার ৩০ জন রোগী থাকার তথ্য দেখা গেছে। একই সময়ে হাসপাতালের একজন চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লেখায় হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওই চিকিৎসক লেখেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে একসঙ্গে ১ হাজার ৩০ জন রোগী ভর্তি থাকা অত্যন্ত চাপের পরিস্থিতি। সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। এর মধ্যেই রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘‘সীমিত সামর্থ্য নিয়ে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সকলে একটা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’’
এদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের রাউন্ড দেওয়ার সময় একজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান বলেও ওই চিকিৎসক তার লেখায় উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত কর্মচাপের একটি উদ্বেগজনক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ওই চিকিৎসক আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু হাসপাতালের সক্ষমতার বিষয় নয়; এটি রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত।
হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্ধারিত ২৫০ শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০ জন। হিসাবে প্রতি একটি অনুমোদিত শয্যার বিপরীতে গড়ে চারজনেরও বেশি রোগী রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য মেঝে, করিডোর কিংবা অন্যান্য স্থানে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন তৈরি হতে পারে—যা হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
চিকিৎসকের ওই লেখায় রোগীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষের প্রতি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের শয্যা ও জনবল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০ জনে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে হাসপাতালের বর্তমান জনবল, শয্যা ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসেবার ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে উঠে আসবে।