পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন) করতে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগে মো. সোবাহান নামে এক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নামজারি সংক্রান্ত কাজে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে বিধি অনুযায়ী ওই ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি লিখিত জবাবও দিয়েছেন। তার দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জবাব সন্তোষজনক হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকারের দাবি, ছয়টি দলিলের নামজারি করাতে উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে তার কাছে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। শুরুতে ছয়টি নামজারির জন্য তার কাছে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা নামজারির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চারটি নামজারির মধ্যে মাত্র একটি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের সমর্থনে থাকা একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে টাকা লেনদেন ও টাকা গোনার দৃশ্য রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী, একটি নামজারির জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে নামজারির জন্য আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।
এদিকে, সাময়িক বরখাস্তের পর এখন কারণ দর্শানোর জবাব ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের নথিপত্র পর্যালোচনা করছে প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।