পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত, মোবাইল ফোনে অনৈতিক প্রস্তাব এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলাম বারেক নামে এক ইউপি সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাংগাশিয়া গ্রামের মানিক বয়াতির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক মো. আমিনুল ইসলাম বারেক পাংগাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য বারেকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি ভিজিএফের চালসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। একপর্যায়ে এসব সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা আগে থেকেই বিরক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন রাতেও ইউপি সদস্য বারেক ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে বাড়ির পেছনে আসতে বলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে বাড়ির লোকজন বাথরুমের পাশ থেকে সন্দেহজনক শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তারা টর্চলাইট নিয়ে সেখানে যান। এ সময় সেখানে একজনকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে দৌড়ে গিয়ে টিনের বেড়া ও একটি গর্তের মধ্যে পড়ে যান।
এরপর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে রাখেন। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের কাছ থেকে ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বারেককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে চাঞ্চল্য
আটকের পর ইউপি সদস্য বারেককে শিকল পরানো অবস্থায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্নজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে নানা মন্তব্য করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা ও এর প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বারেকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুমকি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এদিকে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মো. আমিনুল ইসলাম বারেক পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল।