আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় আমতলী পৌরসভার উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলাসহ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। একই সময়ে বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পায়রা সম্মেলন কক্ষ থেকে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আমতলীর স্থানীয় উদ্বোধনী আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক, স্কাউট সদস্য, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ‘তারুণ্যের আলো যুব ফোরাম’-এর সদস্য, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম বাদল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন বা চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার বংশবিস্তারের স্থানগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। সামান্য অসচেতনতাও এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
উদ্বোধনী কর্মসূচির পর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য অংশীজন পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী তিন মাস আমতলী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক প্রচার, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব। নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তারা ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আমতলীর প্রতিটি নাগরিককে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।