দুর্যোগের সময় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর মহিপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দুর্যোগের আগেই স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘নিরাপদ আশ্রয়, সবার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাসের এলআরপি-৫০ প্রকল্প, কলাপাড়ার উদ্যোগে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন আভাসের সিএএসআর প্রজেক্ট অফিসার রুবি আক্তার। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএএসআর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মনিরুল ইসলাম।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল হক হিরো, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমান, ডালবুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার ফারুক এবং ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা মোসা. তানিয়া আক্তার।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। শুধু আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেই হবে না, সেখানে তাদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সেবার নিশ্চয়তাও থাকতে হবে।
তারা বলেন, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ও ব্যবহারোপযোগী স্যানিটেশন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও নারী-শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে সহজে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ করতে ও প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর না করে আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকলে দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তা উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে স্থানীয়ভাবে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সুপারিশ দেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন প্রয়োজনীয় আশ্রয় ও সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।