পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুল হান্নান ভূঁইয়ার স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক স্মরণ করে সভায় বক্তারা তাঁর অবদান ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় পবিপ্রবির টিএসসি কনফারেন্স হলে এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং প্রয়াত উপাচার্যের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. আমিনুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
সভায় বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিকতা থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
তিনি বলেন, মরহুম উপাচার্যের গুণাবলি ও আদর্শকে নিজেদের কর্মজীবনে ধারণ করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; শিক্ষা, গবেষণা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই একটি প্রতিষ্ঠানকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত উপাচার্যের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, পবিপ্রবির প্রাথমিক সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি শক্ত করতে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত উপাচার্যের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত গুণাবলি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব রব্বানী, অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার এবং উপপরিচালক মাহফুজুর রহমান।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও তাঁর কর্ম ও অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাঁদের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকে। অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুল হান্নান ভূঁইয়ার কর্ম ও আদর্শ পবিপ্রবির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর অবদানকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নৈতিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে পবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভার শেষপর্বে প্রয়াত অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুল হান্নান ভূঁইয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবোধ ও আদর্শ অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।