‘দয়া করে আমাকে বাঁচান। বিনা চিকিৎসায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই না। ঋণ করে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে এখন সর্বস্বান্ত। প্রতি মাসে চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন। এই ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর বাংলা গ্রামের নূর মোহাম্মদ শিকদার। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। পরিবারের দাবি, তাঁর দুটি কিডনিই প্রায় বিকল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাঁকে। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নূর মোহাম্মদ শিকদার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর বাংলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের ছেলে। পেশায় কৃষক। সীমিত আয়ের পরিবারে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে তাঁর সংসার। অসুস্থতার আগে কৃষিকাজ করেই পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতেন তিনি। এখন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর কিডনি জটিলতা নিয়ে নূর মোহাম্মদ ঢাকার সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ যোগ হওয়ায় প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
নূর মোহাম্মদ শিকদার বলেন, ‘চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ধারদেনা করতে হয়েছে। এখন আর ঋণ করার মতো অবস্থাও নেই। চিকিৎসকরা যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা কোথা থেকে জোগাড় করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। আমার নিজের কোনো সামর্থ্য নেই। সমাজের হৃদয়বান মানুষ, বিত্তশালী ব্যক্তি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি। সবাই পাশে দাঁড়ালে হয়তো চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব এবং পরিবারটির জন্য বেঁচে থাকতে পারব।’
নূর মোহাম্মদের স্ত্রী কুসুম বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমাদের সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এখন আমাদের সামনে আর কোনো পথ দেখছি না।’
তাঁর ছেলে খলিল শিকদার বলেন, ‘বাবার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে সরকারি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে বাবাকে ভালোভাবে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাব।’
নূর মোহাম্মদের মেয়েও বাবার চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আমার বাবার দুটি কিডনি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা নিজেরা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছি না। সবাই যদি সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেন, তাহলে বাবার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাসান মিয়া বলেন, নূর মোহাম্মদ অত্যন্ত অসচ্ছল পরিবারের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গুরুতর অসুস্থতার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি বিপাকে পড়েছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।
চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মুন্সী বলেন, নূর মোহাম্মদ আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁর চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা চেয়ে সমাজসেবা দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে পরিবারটি উপকৃত হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নূর মোহাম্মদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর পরিবার সামর্থ্যবান ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সহায়তা পাঠাতে পরিবারের পক্ষ থেকে ০১৭০০৮৬৩০৩৮ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।