ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানার তথ্য; গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার কর্মকর্তার
চেকের একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছে।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চেকের মামলায় আবুল কালাম আজাদকে দণ্ড দেন বরিশালের একটি আদালত। ওই মামলায় আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালতের ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চেকের একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’ পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন আবুল কালাম আজাদ। মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সরাসরি কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ খানের সহোদর ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে তিনি কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আবুল কালাম আজাদ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। টিএসসির সহকারী রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম সেরনিয়াবাত বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ কোনো ছুটি নেননি। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি অফিসে আসেননি। কী কারণে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তা এখনো জানা যায়নি।’
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ড, পুলিশি গ্রেপ্তার এবং তার নিজের বক্তব্য—তিনটি বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে ভিন্নতা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিকভাবে এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি।’
এ ঘটনায় চেকের মামলায় আদালতের দেওয়া রায়, পুলিশের গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তার বক্তব্য—সবকিছু নিয়েই সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং মামলার নথি বা আদালতের আদেশের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।