পুরোনো কমিটি গঠনের সময় ফুলেল শুভেচ্ছার ছবি তুলে ধরে প্রশ্ন; মিছিল ও হামলা নিয়েও অভিযোগ
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি শীলের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি মির্জাগঞ্জের যুবদলের কয়েকজন নেতাকে চেনেন না—এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ। এ মন্তব্যের পর পুরোনো কমিটি গঠনের সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তার সমালোচনা করছেন তারা।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের সময় বর্তমান আহ্বায়ক গাজী রাশেদ সামস, সদস্যসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম লিটন জেলা বিএনপির সভাপতি কুট্টি শীলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ছবিও রয়েছে বলে দাবি তাদের।
তাদের প্রশ্ন, কমিটি গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর এখন তাদের না চেনার বক্তব্য কেন দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কুট্টি শীলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ধারাবাহিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের মিল না থাকলে তা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে পটুয়াখালীতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সংঘাত ও হামলার অভিযোগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুবদলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কুট্টি শীলের নির্দেশে পটুয়াখালীতে একটি ‘ঝাড়ু মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
তাদের আরও অভিযোগ, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুমকি উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমান লাল মিয়ার ভাই আহত হন। তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
যুবদলের নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো ধরনের সহিংসতা বা হামলা কাম্য নয়। একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। এসব ঘটনা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে স্পষ্ট অবস্থান এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে কুট্টি শীলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের সমন্বয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য প্রকাশ্যে এলে তা দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও সাংগঠনিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।