পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে নাগরিক প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ ও ‘সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এসডিএ)’ যৌথভাবে সভাটি আয়োজন করে। এতে আর্থিক সহযোগিতা দেয় জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
বদরপুর ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. আ. করিম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র শীল এবং উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি স.ম. দেলোয়ার হোসেন দিলীপ।
অনুষ্ঠানটি সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন এসডিএ প্রতিনিধি ও নাগরিক প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা সৈয়দা তানবিন জাহান।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লাভলী বেগম ও নাসিমা রহমান, সাংবাদিক ও উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উত্তম কুমার, ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, সদস্য নাজমা বেগম, রাজু আহমেদ ও মো. নুরুল হকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারীনেত্রী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তাদের প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. আ. করিম খান বলেন, জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন করা হলে তা আরও কার্যকর, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।
উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি স.ম. দেলোয়ার হোসেন দিলীপ বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আগামী অর্থবছরের বাজেটে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাবুল হোসেন বলেন, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ পানির সংকট নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাবুল হোসেন আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জনগণ নিয়মিত কর পরিশোধ না করলে পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই তিনি ইউনিয়নবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর পরিশোধের আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।