স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম ভবনটিতে না চলায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি কোনো কাজে আসছে না। পরিষদের বিভিন্ন সেবা নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে অন্যত্র যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শাহ আলী তালুকদার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য এক একর জমি দান করেন। ওই জমিতেই নির্মাণ করা হয় দ্বিতল কমপ্লেক্স ভবনটি। ভবনে ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যদের জন্য পৃথক কক্ষ ছাড়াও সভাকক্ষ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের জন্য আলাদা কক্ষ রাখা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে ভবনটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার না হওয়ায় ধীরে ধীরে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন দরজা-জানালা ভাঙা ও নষ্ট হয়ে গেছে। দেয়াল ও ছাদে জমেছে শেওলা। ভবনে প্রবেশের রাস্তাটিও কাদাপানিতে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও গবাদিপশুর খড়। মেঝেতে দেখা গেছে গরু-ছাগলের মলমূত্র। ভবনের কয়েকটি কক্ষে নেশাজাতীয় দ্রব্যের খালি প্যাকেটও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হাওলাদার বলেন, সন্ধ্যার পর ভবনটিতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের কেউ কেউ সেখানে মাদক সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কাজে গেলে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অন্য কার্যালয়ে যেতে হয়। সেখানেও অনেক সময় চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায় না।
আরেক বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘‘মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য যে ভবন তৈরি করা হয়েছিল, সেটি এখন গরু-বাছুরের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। কক্ষগুলোতে খড় রাখা হয় এবং গবাদিপশু বাঁধা হয়। সরকারি অর্থে নির্মিত এমন একটি ভবনের এ অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।’’
ভবনটি ব্যবহার না করার বিষয়ে গলাচিপা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ভবনটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি জানার পর দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর ভবনটি কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগ কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ভবনটি সংস্কার করে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সেখানে ফিরিয়ে আনা হোক। একই সঙ্গে ভবনটি যাতে মাদকসেবী কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।